Posts

Image
কবিতাঃ মৃত্যুছায়া আসিফ মাহমুদ জীবন আজ আমার জোছনায় মন নেই, কবিতার প্রতি ছন্দে আমি হারিয়ে ফেলেছি খেই। অন্ধকারের পতিত কূপে ঘুরিছে হাজারো ছায়া, তাদের সে নৃশংস রুপে কাঁপিছে মোর কায়া। বইয়ের পাতার শব্দগুলো আজও বোবার মতো নির্বাক, স্বার্থান্বেষী তারাও জানে আমার এ দুর্বিপাক । আশেপাশে কতো সখা যে ছিলো, তাদের ডেকেছি ‘প্রিয়’, বিপদের দিনে তারাও বুঝেছে, চুপ থাকাটাই শ্রেয়। আলো-আধারির জোছনার নিচে একা দাঁড়িয়েছি শেষে, নিঃস্ব আমি, রিক্ত আমি, মৃত ফকিরের বেশে। চাঁদ হেসে তার রুপের পশরা সাজিয়ে বসেছে যেই, বলেছি আমি, ওগো শশী, আজ আমার জোছনায় মন নেই।
Image
লেখকঃ আসিফ মাহমুদ জীবন লেখকের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিলো ‘বহুব্রীহি’ তে। ‘বাকের ভাইয়ের’ মতো গলায় চেইন ঝুলিয়ে টঙের দোকানে সিগারেট টানার চেষ্টা কম করিনি। কিন্তু হিমুর সাথে পরিচয়ের পর জীবনে আসলো বৈরাগ্য আর নগ্ন পায়ে হন্টণ অভ্যাস। রুপাকে খোঁজার জন্য মরিয়া প্রায় আমি শেষে দেখা পেলাম মিসির আলির। মোটা পুরু চশমার আড়ালে বুদ্ধিদীপ্ত চোখের ঝিলিক ভুলবার নয়। ‘দেয়ালে’ যখন পিঠ ঠেকে গেছে তখন ‘কবি’র মতো মুক্ত বিহঙ্গ হতে চেয়েছি। জানি, আজও ‘মৃন্ময়ীর মন ভালো নেই’। থাকবে কি করে, আপনি যে নেই। আজ ‘সবাই গেছে বনে’ , চারপাশে ‘ক োথাও কেউ নেই’। আর আপনি ‘মাতাল হাওয়ায়’ বসে শুভ্র এর সাথে দুলে দুলে ‘জল জোছনা’ দেখছেন। নুহাশ পল্লীতে আজ সবাই জড়ো হয়েছিলো। রুপার হাতে ছিলো রাধাচূড়া ফুল, নিলার হাতে কৃষ্ণচূড়া। লীলাবতীর হাতের কদম ফুলের মালাটা সেদিন কারো দৃষ্টির বাইরে যায়নি। মিসির আলি একা একা বিড়বিড় করছিলেন, আজও তিনি বৃদ্ধই আছেন, ঠিক যেমনটা রেখে গিয়েছিলেন। কেউ কাদেনি, কাদবেই বা কেন? আপনি তো আছেনই, ঠিক যেমনটা ছিলেন, প্রত্যেক বইপ্রেমীর হৃদয়ে ‘জোছনা ও জননীর গল্পের’ মতো। মৃত্যুর মতো তুচ্ছ বিষয় আপনাকে ম্লান করতে পারেনি। তাইতো বড্ড বল...
Image
বিষয়ঃ আত্মসমালোচনা প্রশ্নঃ ‘আসিফ মাহমুদ জীবন’ নামক ছেলেটি কৃপণ নয়, প্রমাণ কর। [যশোর বোর্ড ২০২০] ভুমিকাঃ কিছু কিছু মানুষের চেহারা দেখে বোঝাই যায় তারা কেমন দিলখোলা। কিন্তু আসিফ মাহমুদ জীবনের ছেড়া স্যান্ডেল দেখেই বোঝা যায় সে কি পরিমাণ দিলখোলা। সবাই যখন ক্যাফেতে গিয়ে নিজের টাকার উষ্ণতা আর পার্সোনাল হোমমিনিস্টার প্রদর্শন করে তখন ‘জীবন’ নামক ছোকরা রাস্তার পাশের ৫ টাকার ঠাণ্ডা শরবত খায়। তার মানে এই না যে কৃপণ, সে আসলে একটু ইয়ে। প্রধান প্রমাণঃ সম্প্রতি জীবনের উদ্যোগে ‘ জীবন কৃপণ’ শীর্ষক গুজব পরিহারের ব্যাবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠানটি সকাল ১০ ঘটিকায় কে সি কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জীবন সবাইকে ডিম না ভেঙে মুরগির বংশবিস্তারে সাহায্য করার প্রস্তাব দিলে তাকে কিছুক্ষণ উত্তমমধ্যম প্রদান করে উপস্থিত ছাত্র সমাজ। ছাত্র সমাজের ব্যাপক ব্যাপক গণধোলাই খেয়ে জীবন ট্রিটে ৫ টাকার ঝালমুড়ির বদলে ১৫০০ টাকার ফ্রাইড চিকেন খাওয়াতে রাজি হয়। কিন্তু অবশেষে মাত্র ৩ জনকে ট্রিট দেয়া সম্ভব হয় কারণ বাকি ২০ জন সেখানে আসেন নি। আল কুরআনে বলা হয়েছে, অবিশ্বাসীদের পরিণাম ভয়াবহ। যেসব ভ্রাতাগণ জীবন নামক ভদ্র( বুঝত...
Image
কলেজে প্রথম দিন  ( বাস্তব অভিজ্ঞতা ) লেখক ও প্রত্যক্ষদর্শীঃ  আসিফ মাহমুদ জীবন বিশাল গেটটার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের খুব ক্ষুদ্র মনে হচ্ছে, স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কবে কবে যে কলেজের গেটে এসে দাঁড়িয়েছি নিজেরাও টের পাইনি। আজ এই গেটের সামনে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারছি বেশ বড় হয়ে গেছি ( আমি কিন্তু আগের মতোই ছোটখাটো, গোলগাল, তিন বেলা ভাত গেলা বাঙালিই আছি)। দুরুদুরু বক্ষে ভিতরে প্রবেশ করলাম, চারদিকে মহিলা আর আমাদের মতো বাচ্চা ছেলেদের ছড়াছড়ি। আমরা কজন কলেজ চত্বরের এককোণায় গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়ে আছি। মাঝে মাঝেই কতিপয় মহিলা আমাদের পায়ের কাছে পানের পিক থেকে শুরু করে আটার বাক্স ছুড়ে মারছেন আর আমরা সভয়ে কয়েক পা পিছিয়ে যাচ্ছি। তারপর শুরু হল অ্যাসেম্বলি। বি এন সি সি এর একজন কমান্ড দেয়া শুরু করলেন, তিনি মার্চ করতে করতে অধ্যক্ষ মহোদয়ের দু হাত সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বিকট আকারে স্যার বলে চিৎকার দিতেই অধ্যক্ষ মহোদয় বুকের বা দিক চেপে ধরে চোখ মুখ উলটে গো গো শব্দ করতে লাগলেন। এমন মহা কেলেংকারিতে চারদিক হৈ হৈ করে লোকজন ছুটে আসার আগেই কমান্ডার মদন দ্বিতীয়বারের মতো স্যার বলে চিৎকার দিতেই ভেল্কিবাজির মতো কাজ হল। অধ্য...
Image
বিষয়ঃ  কলেজ ভর্তি বিভ্রাট  (ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা+ অতিরঞ্জিত কল্পনা) লেখক ও প্রত্যক্ষদরশিঃ  আসিফ মাহমুদ জীবন হাতের দশ আঙুল কি প্যাডের উপর দ্রুত চলছে, মাঝে মাঝে মৃদু ক্লিক ক্লিক শব্দ শোনা যাচ্ছে। মনিটরের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ৬ জোড়া চোখ, তাদের নিস্তব্ধতায় বুকের ধুকধুক শব্দ শোনা যাচ্ছে কয়েকগুন বেশি জোরে। হটাৎ করে পর্দায় ভেসে উঠল কতোগুলো সংখ্যা। আপাতদৃষ্টিতে সেগুলো অর্থহীন মনে হলেও সংখ্যাগুলো দেখে চারদিকের নিস্তব্ধতা খানখান করে চেঁচিয়ে উঠল সবাই, তাদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। বর্ণনাটা আসলে আমাদের কলেজ ভর্তির মুহূর্তের, জীবনের একটা স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে এটি। জুন মাস হতে না হতেই আমাদের প্লান হতে লাগলো কলেজে কি করে একসাথে সিট করা যায়, কেন একসাথে করব তা নিশ্চিত বলে দিতে হবেনা ? কিন্তু বাস্তবতা বড়ই কঠিন, এ কথাটার অর্থ বুঝলাম যখন ২৭ তারিখ সকাল বেলায় গিয়েই দেখলাম, চারদিক হাউজফুল। গার্লস স্কুলের বাঘা বাঘা তরুণীরা মিলে ততক্ষণে কয়েকটা দোকান দখল করে ফেলেছে, আমরা অনাথ বিড়াল ছানার মতো যেদিকেই যাই, শুধু হাউজফুল দেখতে পাই। সাহস করে কয়েকজন পরিচিত তরুণীর পিছনে আমরা জড়ো হলাম এই আশায়...
Image
বুক রিভিউঃ ব্লাক বুদ্ধা লেখকঃ রবিন জামান খান রিভিউ লেখকঃ আসিফ মাহমুদ জীবন ১৮০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ, মৌর্য সাম্রাজ্যের পতন আর শুঙ্গ বংশের উত্থানের মধ্যে দিয়ে ভারতবর্ষ যখন নিষ্ঠুরতম গণহত্যায় উত্তাল, তখনই অপহৃত হলেন তিব্বতের সবচেয়ে বড় মঠের লামা। তাকে উদ্ধার করতে ভারতবর্ষে পা রাখল তিব্বতের সেরা যোদ্ধাদের একজন। অন্যদিকে, বর্তমান সময়ে আসাম থেকে রিসার্চ প্রজেক্ট শেষ করে দেশে ফেরার পথে হটাৎ করে গায়েব হয়ে গেলেন শাবিপ্রবির’র একজন শিক্ষক। তাকে খুজে বের করতে সিলেট পাঠানো হল তানভির মালিককে। একদিকে সিলেটকে নিয়ে তানভিরের প ুরনো তিক্ততা, তার উপর ক্যারিয়ারের প্রথম ফিল্ড মিশন, তানভির মালিক বেপরোয়া হয়ে উঠল মুক্তির জন্য। প্রতি পদে হোঁচট খেতে খেতে যখন রহস্য উন্মোচনের দ্বারপ্রান্তে তখন সে জানতে পারলো অতীত ও বর্তমানের জটপাকানো ঘটনার মূল নিহিত আছে এমন এক বিন্দুতে যেখানে অবস্থান করছে দুই হাজার বছরের পুরনো এক রহস্য, মানব সভ্যতা যাকে অন্ধকারের অবতার তথা ব্লাক বুদ্ধা নামে জানে। লেখক রবিন জামান খান সুদীর্ঘ ইতিহাস আর বর্তমান সময়কে এক বিন্দুতে নিয়ে এসেছেন। প্রতিটি অধ্যায় পাঠককে চুম্বকের মতো ধরে রাখবে সারাটি...
Image
বুক রিভিউঃ  ইনফার্নো লেখকঃ ড্যান ব্রাউন রিভিউ লেখকঃ আসিফ মাহমুদ জীবন অন্ধকারাচ্ছন্ন একটা গুহা, হটাত সেখানে ভয়াল দর্শন এক মুখোশধারীকে দেখা গেলো, তার বলা ভয়ঙ্কর কথাগুলো পৃথিবীকে বদলে দেবে এক নিমিষে। সিম্বলজিস্ট রবার্ট ল্যাংডন জ্ঞান ফিরে নিজেকে আবিস্কার করলেন ফ্লোরেন্স শহরে, রেনেসাসের সূচনা আর সমাপ্তির কেন্দ্রস্থল এটাই। কিন্তু কি ঘটেছিল তার সাথে, কেনই বা তিনি এখানে কোনটিই তার মনে পড়ছে না। স্মৃতি ভ্রষ্ট ল্যাংডনের জ্যাকেটে পাওয়া যায় অদ্ভুত একটা জিনিস যা পুরো ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ঘটনাচক্রে তার সাথে জড়িয়ে পড়ে  অদ্ভুত এক মেয়ে, তারপর ঘটতে থাকে একের পর এক সহিংসতা। এক গুপ্ত সংঘটনের আক্রমনে জীবন বাজি রেখে দুজনে খুড়ে বের করার চেষ্টা করে প্রকৃত রহসস্যের সমাধান। দ্যা ভিঞ্চি কোড এবং লস্ট সিম্বলের পর পাঠকের সামনে আবারও উপস্থিত হলেন ড্যান ব্রাউনের অনবদ্য সৃষ্ট চরিত্র, রবার্ট ল্যাংডন। প্রাচীন ইতিহাস আর লেখকের অসাধারণ বর্ণনা পাঠকের নিউরনে এক অদ্ভুত আলোড়ন সৃষ্টি করবে দান্তে আলঘেরির রোমকে তুলে ধরবে চোখের সামনে। পাঠকের সামনে অসাধারণ এ উপস্থাপনাই ইনফার্নো এর সার্থকতা।...
Image
গল্পঃ  ডার্ক ম্যাজিকঃ দ্যা রিটার্ন অফ দ্যা প্রিস্ট লেখকঃ আসিফ মাহমুদ জীবন শেষ পর্ব গলির শেষ প্রান্তে নারীমূর্তিটা দাঁড়িয়ে আছে, একবারে স্থির হয়ে। বিপরীত দিক থেকে ল্যাম্পপোস্টের মৃদু আলো আসায় ছায়ামূর্তির চেহারা দেখা যাচ্ছে না। মোতালেব কিছুক্ষণের জন্য চোখ সরু করে দাঁড়িয়ে রইল, মাতাল হলেও এটুকু সে বুঝতে পারছে যে মাঝরাতে এ রাস্তায় কোন নারী দাঁড়িয়ে থাকা স্বাভাবিক ঘটনা নয়। শেষ পর্যন্ত কৌতূহল ধরে রাখতে না পেরে সামনে এগিয়ে গেলো মোতালেব। ঘটনাগুলো দ্রুত চোখের সামনে দ্রুত ঘটে গেলো। নারীমূর্তি ছুটে এসে মোতালেবকে এক ধাক্কায় ছিটকে ফেলল, ধাক্কার তোপ সামলে ওঠার আগেই নারীমূর্তি মোতালেবের বুকের উপর চেপে বসল। মৃত্যুর আগে মোতালেব শুধু দেখতে পেরেছিল অনিন্দ্যসুন্দর একখানা মুখ, যাতে ভর করেছে বন্য হিংস্রতা। গলির মধ্যে প্রবাহিত বাতাস মোতালেবের বুকের বাম পাশের ফুটো দিয়ে ঢুকে অদ্ভুত শব্দ করছিল, সে শব্দ অনেকে শুনতে পারলেও শব্দের উৎস সম্পর্কে কারো কোন ধারণা ছিল না। মফিজুল করিম টেলিভিশনের সামনে বসে আছেন, নিশ্চল হয়ে। বুড়ো বয়সে তার একটা রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই টেলিভিশনের সামনে বসে থাকা, দ্রুত সময় কেটে...
Image
গল্পঃ  ডার্ক ম্যাজিকঃ দ্যা রিটার্ন অফ দ্যা প্রিস্ট লেখকঃ  আসিফ_মাহমুদ_জীবন দ্বিতীয় পর্ব চমকে ওঠার মতই বিষয়, বৃদ্ধ এই রাতে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন, তার বের হওয়া দেখে মনে হচ্ছেনা যে স্রেফ হাঁটতে বের হচ্ছেন।কাঁধে ব্যাকপ্যাকই বলে দিচ্ছে এই গভীর রাতে তার বের হওয়ার কোন উদ্দেশ্য আছে। তার চেয়ে অবাক করা বিষয়, বৃদ্ধের হাতের ছড়ি উধাও। ছড়িতে ভর দিয়ে ছাড়া কখনো উনাকে হাঁটতে দেখেনি শেফা, সেখানে বৃদ্ধ মেরুদণ্ড সটান করে হাঁটছে। বাড়ির বাইরে বের হয়েই বৃদ্ধ এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন। ওখান থেকে শেফাকে দেখতে পাওয়ার কোন উপায় নেই, তবু শেফা দ্রুত একটা পিলারের আড়ালে চলে গেলো, উত্তেজনায় তার বুকের ধুকধুকানি সে স্পষ্ট শুনতে পারছে। কিছুক্ষনের মধ্যেই বৃদ্ধ চোখের আড়ালে চলে গেলো, যেদিকে গেলো সেদিকে পাড়ার একমাত্র গোরস্থানটা রয়েছে। শেফা ভয় পাচ্ছে বটে কিন্তু জল কদ্দুর গড়ায় তা দেখার কৌতূহল সামলাতে পারছে না। বৃদ্ধ যখন বাড়ি ফিরলেন তখন ভোর হবার আর বেশিক্ষণ নেই। বৃদ্ধের বাড়িতে ঢোকামাত্র শেফা নিচে নেমে আসলো, সে বেশ বুঝতে পারছে তার জ্বর এসেছে। একটা চেয়ারে দড়ি দিয়ে শক্ত করে কেউ শেফাকে বেঁধে রেখেছে, যে কামরায় সে বাঁ...
Image
গল্পঃ ডার্ক ম্যাজিকঃ দ্যা রিটার্ন অফ দ্যা প্রিস্ট লেখকঃআসিফ_মাহমুদ_জীবন প্রথম পর্ব সময়টা ১৭৯৫, নভেম্বর মাস।আমেরিকার ফিলাডপিয়া অঙ্গরাজ্যে তখন প্রচণ্ড শীত, ক্রমাগত তুষারপাত হচ্ছে, রাস্তার ধারের গ্যাসবাতি গুলো প্রায় নিভু নিভু হয়ে জ্বলছে। প্রচণ্ড শীতকে অগ্রাহ্য করে শহরের কেন্দ্রে জড় হয়েছে উত্তেজিত জনগণ, তাদের প্রায় প্রত্যেকের হাতেই জ্বলন্ত মশাল। চারদিকের হট্টগোল দেখে ‘ব্যাটল অব পিস’ ম্যুরালের পাদদেশে উঠে সবার উদ্দেশ্যে হাত নাড়ালেন কাউন্ট সুলিভান। মুহূর্তের মধ্যে সব হট্টগোল থেমে গেলো, সবার চোখ এখন কাউন্টের দিকে। “ মাই ডিয়ার লেডিস এন্ড জেন্টস,আপনার সবাই হয়ত বিষয়টা জানেন। তবুও আরেকবার সবাইকে এটা মনে করিয়ে দিতে চাই। আমাদের এককালে সকলের শ্রদ্ধেয় প্রিস্ট রিচার্ড একজন ছদ্মবেশী প্রতারক। চার্চে ঈশ্বরের দোহায় দিয়ে আমাদের চোখের আড়ালে তিনি শয়তানের উপাসনা করেছেন। ছিঃ,ভাবতেও লজ্জা হয় যে এমন একজন মানুষের কাছ থেকে আমরা হলি ওয়াটার নিয়ে পবিত্র হবার চেষ্টা করেছি!” উপস্থিত জনগনের মধ্যে একটা মৃদু গুঞ্জন শোনা গেলো। কাউন্ট সুলিভান সেসব পাত্তা না দিয়ে ফের শুরু করলেন, “কয়েকদিন আগে আমাদের শহরের একটা ...
Image
গল্পঃ তুলনা   লেখকঃ আসিফ মাহমুদ জীবন স্কুল মাঠের নিচু জমি থেকে কয়েক তাড়ি আড়ং শাকের পাতা তুলল রহিমা। ছেলেটা কয়দিন থেকেই মুরগির মাংস খেতে চাচ্ছে, কিন্তু রহিমা নিরুপায়। যেখানে দিনে দুবেলা ভাত যোগাড় করা প্রায় অসম্ভব সেখানে মাংস তো অলীক কল্পনা। রহিমা বাড়ির দিকে ফিরছে, প্রচণ্ড ক্লান্ত দেখাচ্ছে তাকে। গত কয়েক মাস ধরে বড় কয়টা ঝড় গিয়েছে রহিমার উপর। মাস ছয়েক আগে কাশেম মিয়া ট্রাক চাপায় মারা গেছে, স্বামীর লাশ চিনতে পারেনি রহিমা, অবশ্য সে বস্তুকে লাশ বলাও চলে না, একদলা মাংসপিণ্ড বললেই ভাল হয়। স্বামীর শোক কাটাতে না কাটাতেই দ্বিতীয় ঝড়টা আসলো, এবার বেশ জোরেশোরেই। রহিমার ছেলেটার ক্যান্সার ধরা পড়ল, ব্লাড ক্যান্সার। ছেলেটা দু মাসেই শুকিয়ে গেছে, অস্থিচর্মসার এমন শিশুকে দেখে যে কেউ চমকে মৃত ধরে নেবে, কিন্তু সুলেমান মরেনি, বেঁচে আছে। বেঁচে আছে মরে যাবার জন্য। বাড়ির সামনের গলি দিয়ে না ঢুকে বড় রাস্তার দিক দিয়ে ঘুরে বাড়ি ঢুকল রহিয়া। গলিতে ঢুকলেই মরিয়ম চাচির সাথে দেখা হতো, গত একমাস ধরে চাচি ধারের টাকাটার জন্য তাগাদা দেয়া শুরু করেছে। দেখা হলেই দু চার কথা শুনিয়ে দিত। ঘরে ঢোকার পরও সুলেমান নড়ল না, দে...
Image
গল্পঃ আতঙ্কের অতীত  লেখকঃ  আসিফ_মাহমুদ_জীবন শেষ পর্ব রুবেলের তথাকথিত সর্বনাশটা স্বচক্ষে দেখার জন্য সাইমুমকে টিভির সামনে বসতে হল। আইজিপি আব্দুল করিম প্রেস কনফারেন্স করছেন, সিরিয়াল কিলিং এর রহস্য তিনি উন্মোচন করেছেন। আইজিপি সাহেব ইস্ত্রি করা ইউনিফর্ম পড়ে এসেছেন, টাক মাথায় গুনে গুনে যে তিনটা চুল আছে টা অতি সযত্নে আঁচড়ানো, তাকে সম্ভবত সরিষার তেল মেখে এসেছেন, সাংবাদিকদের ফ্ল্যাশে সেটা বারবার ঝিকমিক করে উঠছে। ক্যামেরার সামনে আইজিপি মহাদয় যখন বললেন আব্দুল করিম অপরাধী তখন সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ একটা গুঞ্জন সৃষ্টি হল, শুধু জামালের মুখ থেকে আইজিপিকে উদ্দেশ্য করে ভয়ঙ্কর একটা গালি শোনা গেলো। টিভির এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে কথা বলার সুযোগ থাকলে আইজিপি হয়ত ঘাড় ঘুরিয়ে দেখার চেষ্টা করতেন কে তাকে এমন গালি দিলো। জামাল খেয়াল করেনি, তার খেয়াল করা উচিত ছিল, সাইমুম হাসছে। সাইমুম তার কাজের রুটিন বেঁধে নিয়েছে। বড়শি ফেলা হয়ে গেছে, এখন শুধু টোপ গেলার অপেক্ষা, কিন্তু তার আগে বহু কাজ বাকি, প্রমাণ চায়,নিরেট প্রমাণ। সাইমুম নারায়ণগঞ্জে একটা জরাজীর্ণ বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, ইতোমধ্যে দুইবার কল...